ঘোড়াঘাটে বিতর্কিত চার্জশিট ও ওসির অপসারণের দাবিতে পৌর ছাত্রদল ও ভুক্তভোগী পরিবারের মানববন্ধন


Desk News প্রকাশের সময় : জুলাই ২৩, ২০২৬, ৭:২৯ অপরাহ্ন /
ঘোড়াঘাটে বিতর্কিত চার্জশিট ও ওসির অপসারণের দাবিতে পৌর ছাত্রদল ও ভুক্তভোগী পরিবারের মানববন্ধন

ফাহিম হোসেন রিজু
ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) প্রতিনিধি:

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট থানায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে ছাত্র-জনতার ওপর হামলার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার মূল আসামীদের আড়াল করে বিতর্কিত চার্জশিট দাখিল, ঘুষ-বাণিজ্য এবং ওসির বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগে এক প্রতিবাদী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকাল ১১টায় ঘোড়াঘাট থানার সামনে (পুরাতন বাজার এলাকা) ঘোড়াঘাট পৌর ছাত্রদল ও ভুক্তভোগী পরিবার ব্যানারে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, গত ৪ আগস্ট ২০২৪ তারিখে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকালে ছাত্র-জনতার ওপর সশস্ত্র হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় (মামলা নং-০৭, জি.আর. নং-১২৯/২৪) মূল অপরাধী ও পদধারী আওয়ামী ফ্যাসিবাদের অনুসারীদের আড়াল করা হয়েছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা, ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং সার্কেল এ.এস.পি যোগসাজশ করে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে মনগড়া ও বিতর্কিত চার্জশিট দাখিল করেছেন।

মানববন্ধনে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন ঘোড়াঘাট পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র মো. আবদুস সাত্তার মিলন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, এই আওয়ামী লীগ নেতাদেরকে সেল্টার দেওয়া হচ্ছে। এবং বিভিন্নভাবে মাঠ পর্যায়ে আওয়ামী লীগ নেতাদের সাথে যোগাযোগ করে ভয়ভীতি দেখিয়ে মামলা ঢোকানোর কথা বলে তারা ব্যবসা-বাণিজ্য করে। এবং তারা দালালের মাধ্যমে টাকা গ্রহণ করে।

আমরা আমাদের অভিভাবক মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়ের কাছে আকুল আবেদন জানাবো ঘোড়াঘাট থানার পক্ষ থেকে। এই ওসি একটা অপূর্ব ওসি। এই ওসি মাদকের বিরুদ্ধে কোনো অভিযান পরিচালনায় সেভাবে করে না। এবং যারা মাদক বিক্রেতা এবং মাদক গ্রহণকারী, তাদেরকে ইনি বলে যে মুরগি। অফিসারদেরকে বলে, “মুরগি ধরে নিয়ে আসো আর সাইজ করো।” সাইজ অর্থাৎ তাদেরকে ধরে নিয়ে আসার পরে টাকার বিনিময়ে এখান থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এবং মিডিয়া—মিডিয়াকে দেখানোর জন্য মাঝেমধ্যে দুই-একজনকে মামলা দিয়ে চালান করা হয় অথবা ভ্রাম্যমাণ দেওয়া হয়।

এই ওসির কারণে ঘোড়াঘাট থানার ব্যাপক আইনশৃঙ্খলার অবনতি হয়েছে। এই ওসির কারণে গরু চুরি বেড়েছে। এই ওসির কারণে মাদকদ্রব্য ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে থানা থেকে। এই ওসি মাসোহারা-টোল নিচ্ছে আপনার মাদক বিক্রেতাদের কাছ থেকে।

তার কারণে এই সমস্ত ঘটনার সঙ্গে এই তদন্তকারী কর্মকর্তা, আপনার সাব-ইন্সপেক্টর, ওসি এবং সার্কেলের আপনারা যারা থানার প্রশাসনিক কর্মকর্তা ভাইয়েরা আছেন—আপনারা আমাদের ভাই। আপনারা জনসেবায় নিয়োজিত রয়েছেন। আমাদের অভিযোগ আপনাদের বিরুদ্ধে নয়। আপনারা প্রশাসনের দায়িত্বে, জনগণের সাথে আপনারা দায়িত্ব পালন করছেন। এজন্য আপনারা অবশ্যই প্রশংসা পাবেন। আমাদের অভিযোগ হচ্ছে, যারা এই অপরাধের সাথে সম্পৃক্ত, যারা হচ্ছে এই টাকার বিনিময়ে, অর্থের বিনিময়ে যারা এই চার্জশিট প্রদান করেছে—এই তিনজনের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযোগ। বাকি কারো বিরুদ্ধে আমাদের কোনো অভিযোগ নেই।

কাজেই আজকের এই মানববন্ধন থেকে আমি উদাত্ত আহ্বান জানাবো প্রিয় সাংবাদিক ভাইয়েরা, আপনারা আমাদের এই বক্তব্যগুলো একটু প্রচার করবেন। এই কারণে আমরা জাতিকে দেখাতে চাই, আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী—প্রধানমন্ত্রীর নজরে নিয়ে আসতে চাই; আমরা আমাদের মাননীয় অভিভাবক, আমাদের মন্ত্রী, আমাদের এমপি মহোদয় অধ্যাপক এ. জেড. এম. জাহিদ হোসেন মহোদয়ের দৃষ্টিতে আনতে চাই যে, এই সমস্ত থানাগুলোতে এখনো আওয়ামী লীগের দোসররা বসে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন করার জন্য তারা কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

অবিলম্বে এই থানার ওসি শহিদুল ইসলাম, আপনার তদন্তকারী কর্মকর্তা সাব-ইন্সপেক্টর এবং ঘোড়াঘাট-হাকিমপুরের সার্কেলকে—তাদেরকে অবিলম্বে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থাসহ প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণসহ এখান থেকে প্রত্যাহার করার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। এবং এই চার্জশিট পুনরায় ফিরিয়ে নিয়ে এসে আওয়ামী লীগের দোসর যাদেরকে এখান থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, তাদেরকে এই চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।

যদি এর কোনো ব্যত্যয় ঘটে, তাহলে ঘোড়াঘাট পৌর বিএনপি, অঙ্গ এবং সহযোগী সংগঠন ঘোড়াঘাটের সর্বস্তরের মানুষকে নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তীতে আরও ব্যাপক কর্মসূচি আমরা ঘোষণা করব।

এ বিষয়ে ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, মামলাটি মনিটরিং সেলে যাওয়ার পর আমাদের সিনিয়র কর্মকর্তাদের দিক নির্দেশনায় মামলাটি তদন্ত শেষে মোট ৫২ জন আসামী করে চার্জশীট দাখিল করা হয়। এখানে অবৈধ লেনদেন কিংবা অনিয়মের সুযোগ নেই।

অপর দিকে ঘোড়াঘাট-হাকিমপুর সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) আ. ন. ম. নিয়ামত উল্লাহ্ বলেন, “আমাদের বিরুদ্ধে যে কেউ অভিযোগ আনতে পারেন। কারও সিদ্ধান্ত পছন্দ না হলে তিনি আদালতে আইনি প্রতিকার চাইতে পারেন।