জনবল সংকট,স্থবির হয়ে পড়ছে বেনাপোল বন্দর শূন্যপদ রয়েছে ৮১জন।


Milon Hossain প্রকাশের সময় : অগাস্ট ১, ২০২৬, ৬:৪৬ অপরাহ্ন /
জনবল সংকট,স্থবির হয়ে পড়ছে বেনাপোল বন্দর শূন্যপদ রয়েছে ৮১জন।

 

মিলন হোসেন বেনাপোল প্রতিনিধি,
যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দরে জনবল সংকটের কারণে স্থবির হয়ে পড়েছে দুই দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য। দীর্ঘদিন নিয়োগ বন্ধ থাকায় বেনাপোল বন্দরে প্রায় অর্ধেক পদ রয়েছে শূন্য। ফলে জোড়াতালি দিয়ে চলছে দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোল। পরিচালক থেকে শুরু করে ৪র্থ শ্রেণি পর্যন্ত বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে অনুমোদিত পদ রয়েছে ২১৬টি। এর মধ্যে কর্মরত আছেন ১৩৫ জন। পরিচালক, উপপরিচালক ও সহকারী পরিচালক মিলে অফিসার থাকার কথা ৮ জন। সেখানে আছে ৬ জন।

বেনাপোল স্থলবন্দরের কাজের পরিধি পূর্বের তুলনায় বেড়েছে চার গুণ। সেই অনুপাতে বন্দরের লোকবল বৃদ্ধি পায়নি। বেশ কিছুদিন আগে একটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার কথা থাকলেও সে কার্যক্রম এখনো হয়ে ওঠেনি।
এ বন্দরে বিভিন্ন ক্যাটাগরির ২১৬ জন কর্মকর্তার মঞ্জুরিকৃত পদ রয়েছে। কিন্তু এখানে কর্মরত আছেন মাত্র ১৩৫ জন। শূন্যপদ রয়েছে ৮১ জন। নিয়োগ দিয়ে লোকবল নিয়োগের কথা বলা হলেও কর্তপক্ষ কোন পদক্ষেপ নিচ্ছেন না। ফলে বন্দর ব্যবহারকারী ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকরা কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না। ফলে ব্যহত হচ্ছে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম।

দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোল।এ বন্দর দিয়ে সরকার প্রতিবছর প্রায় ১০-১১ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায় করে থাকেন। কিন্তু পরিধি অনুযায়ী লোকবল নিয়োগ হয়নি। দেশের সবচেয়ে বড় স্থলবন্দর বেনাপোল দিয়ে প্রতিদিন গড়ে সাড়ে চারশ থেকে পাচশ ট্রাক পণ্য আমদানি ও ২৫০ ট্রাক পণ্য রপ্তানি হয় ভারতে। আমদানি-রপ্তানি মোটামুটি পর্যায়ে থাকলে ও লোকবলের অভাবে কাজের গতি অনেক কম।

এদিকে বন্দরের শীর্ষ কর্মকর্তারা বলছেন, বিষয়টি তারা একাধিকবার বন্দর কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন। কিন্তু এখনো কোনো সুরাহা হয়নি।

বেনাপোল বন্দর সংশ্লিষ্টরা জানান, এত বেশি জনবল ঘাটতির কারণে বেনাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমসহ পণ্যের শুল্কায়ন, মিথ্যা ঘোষণায় আনা পণ্যের পরীক্ষা, অভিযোগের শুনানি, বিরোধ নিষ্পত্তি, রাসায়নিক পরীক্ষা, লাইসেন্স, বন্ড, নিলামসহ আনুষঙ্গিক কার্যক্রম চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। পাশাপাশি বন্দরের সেবা গ্রহণকারী স্টেকহোল্ডাররাও নানাভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন।

সর্বাধিক সংখ্যক পদ শূন্য রয়েছে বন্দরের বিভিন্ন দপ্তরে। ৮ জন কর্মকর্তার পদায়ন থাকার কথা থাকলে ও ৬ জন। বন্দরে সর্বমোট ২১৬ কর্মকর্তা-কর্মচারীর পদ থাকলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন ১৩৫ জন। শূন্য রয়েছে ৮১টি পদ।

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান বনি জানান, জনবল ঘাটতির কারণে পণ্য ছাড় করতে দেরি হচ্ছে। আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন দপ্তরে লোকবল কম থাকায় সব কাজ কম সংখ্যক লোক দিয়ে করতে হচ্ছে। এ কারণে সমস্যা আরো প্রকট আকার ধারণ করেছে।

ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডা. এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট বন্দর সাব কমিটির চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান জানান, বন্দরের জনবল ঘাটতির কারণে দুই দেশের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম হুমকির মূখে পড়েছে।

বেনাপোল বন্দরের পরিচালক শামীম হোসেন জানান, জনবলের ঘাটতি রয়েছে দীর্ঘদিন থেকে। আমাদের দৈনন্দিন কাজে ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়ে মালামাল খালাশে বিলম্ব হচ্ছে। বিষয়টি আমরা বন্দর কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে কয়েক দফা জানিয়েছি।