ঘোড়াঘাটে কালবৈশাখীর তাণ্ডব: লণ্ডভণ্ড ফসলের মাঠ


Desk News প্রকাশের সময় : এপ্রিল ৩০, ২০২৬, ৭:৫৮ অপরাহ্ন /
ঘোড়াঘাটে কালবৈশাখীর তাণ্ডব: লণ্ডভণ্ড ফসলের মাঠ

ফাহিম হোসেন রিজু
ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) প্রতিনিধি:

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে গত কয়েক দিনের টানা কালবৈশাখী ঝড় ও বৃষ্টিতে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ। ঝড়ে ঘরবাড়ি ও গাছপালার পাশাপাশি বোরো ধান এবং ভুট্টা চাষিদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে ঝড়ে পাকা ধান মাটিতে লুটিয়ে পড়া এবং বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় সারা বছরের কষ্ট আর স্বপ্ন নিয়ে এখন চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে স্থানীয় কৃষকদের।

সরেজমিনে জানা যায়, গত রোববার (২৬ এপ্রিল) ভোর থেকে বুধবার দুপুর পর্যন্ত কয়েক দফায় উপজেলার ওপর দিয়ে কালবৈশাখী ঝড় বয়ে যায়। এতে ঘোড়াঘাট পৌরসভাসহ চারটি ইউনিয়নের গ্রামগুলোতে বহু ঘরবাড়ি ও গাছপালা উপড়ে গেছে। টানা ঝড়-বৃষ্টির কারণে খেটে খাওয়া দিনমজুর ও পরিবহন শ্রমিকরা কাজে বের হতে না পারায় বিপাকে পড়েছেন।

উপজেলার বুলাকীপুর ইউনিয়নের বলগাড়ি গ্রামের কৃষক মোফাজ্জল হোসেন বলেন, “আমাদের এলাকার অনেকেই ভুট্টা মাড়াই করে ঘরে তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কিন্তু হঠাৎ ঝড়ে ভুট্টা বাড়িতে নিয়ে আসলেও বৃষ্টির পানিতে ভিজে তা নষ্ট হচ্ছে। এছাড়া মাঠের ভুট্টা ও ধান গাছ সব মাটিতে শুয়ে পড়েছে।”

একই অবস্থা উপজেলার পালশা ইউনিয়নের আমড়া গ্রামেও। ওই গ্রামের কৃষক মো. নাদিরুল ইসলাম জানান, ফসলের মাঠে পানি জমে যাওয়ায় বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানান, ফসল নষ্ট হওয়ায় তারা এখন দেনা পরিশোধ ও পরিবারের ভরণপোষণ নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে আছেন। তারা দ্রুত সরকারি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ঘোড়াঘাট উপজেলায় প্রায় ৯ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান এবং ১ হাজার ৯০০ হেক্টর জমিতে ভুট্টার চাষ হয়েছে। সাম্প্রতিক ঝড় ও বৃষ্টিতে এর একটি বড় অংশ আক্রান্ত হয়েছে।

এ বিষয়ে ঘোড়াঘাট উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. রফিকুজ্জামান বলেন, “কালবৈশাখী ঝড়ে বিশেষ করে বোরো ধান ও ভুট্টা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমাদের মাঠ পর্যায়ের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাগণ বর্তমানে ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নিরূপণের কাজ করছেন। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরির প্রক্রিয়া চলছে।”