সাতক্ষীরার পারুলিয়া পশু হাটে বেচাকেনা কম ভোগান্তি বেশি- প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন


Desk News প্রকাশের সময় : মে ১১, ২০২৬, ১১:০৬ পূর্বাহ্ন /
সাতক্ষীরার পারুলিয়া পশু হাটে বেচাকেনা কম ভোগান্তি বেশি- প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

জিয়াউল ইসলাম জিয়া বিশেষ প্রতিনিধি :
সাতক্ষীরার জেলার ঐতিহ্যবাহী পারুলিয়া পশুর হাটে ঈদকে সামনে রেখে জমজমাট হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র। অতিরিক্ত গরম, ছায়াহীন পরিবেশ এবং অবকাঠামোগত দুর্বলতার কারণে হাটে ক্রমেই বাড়ছে ভোগান্তি, কমছে ক্রেতা-বিক্রেতার উপস্থিতি এবং থমকে যাচ্ছে বেচাকেনা।

যুগ যুগ ধরে চলে আসা সপ্তাহের প্রতি রবিবার বসা এ হাটে সকাল থেকেই পশু আসতে শুরু করলেও দুপুর গড়াতেই তীব্র রোদের কারণে পরিস্থিতি চরমে পৌঁছে যায়। হাট এলাকায় নেই পর্যাপ্ত গাছপালা, নেই স্থায়ী ছাউনি বা বিশ্রামের ব্যবস্থা। ফলে খোলা আকাশের নিচে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন মানুষ। এতে অনেক ক্রেতাই অল্প সময় অবস্থান করে হাট ত্যাগ করছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, খামারি ও ব্যবসায়ীরা পশু নিয়ে অপেক্ষা করলেও ক্রেতার উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে কম। এতে বেচাকেনা স্বাভাবিক গতিতে হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন একাধিক বিক্রেতা। তাদের মতে, গরম ও অনুপযোগী পরিবেশের কারণে হাটে ক্রেতারা দীর্ঘসময় থাকতে পারছেন না।

স্থানীয় আলিপুর গ্রামের আবু তালেব সরদার বলেন, এত বড় হাটে কোনো ছায়া নেই, মানুষ দাঁড়িয়ে থাকতে পারে না। প্রশাসন যদি একটু নজর দিত তাহলে এই অবস্থা হতো না।

পারুলিয়া এলাকার খামারি সিরাজুল ইসলাম বলেন, গরু নিয়ে সারাদিন বসে থাকতে হয়, কিন্তু ক্রেতা আসে না। গরম আর অব্যবস্থাপনার কারণে বেচাকেনা কমে গেছে।

স্থানীয় ক্রেতা তরিকুল ইসলাম বলেন, হাটে কোনো বসার জায়গা নেই, গাছ নেই, পানি নেই। এটা দেখার কেউ নেই। প্রশাসন শুধু নামে আছে, কাজে নেই।
সাতক্ষীরা বাউখোলা গ্রামের ব্যবসায়ী আনারুল ইসলাম বলেন, ইজারা তো ঠিকই নেয়, কিন্তু সুবিধা কিছুই দেয় না। মানুষের কষ্ট দেখার মতো কেউ নেই।

আরেক খামারি হাফিজুর রহমান বলেন, প্রতি বছর একই সমস্যা, কিন্তু কোনো পরিবর্তন হয় না। ইজারা রাজস্ব থাকলেও উন্নয়ন নেই।

স্থানীয়দের অভিযোগ, হাট থেকে প্রতি বছর ইজারার মাধ্যমে সরকারের লাখ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় হলেও তার বিপরীতে মাঠপর্যায়ে কোনো দৃশ্যমান উন্নয়ন হয়নি। পর্যাপ্ত ছাউনি, গাছপালা, বসার ব্যবস্থা কিংবা বিশুদ্ধ পানির মতো মৌলিক সুবিধা না থাকায় সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন।

এ বিষয়ে হাটের বর্তমান পরিস্থিতি ও প্রশাসনিক উদ্যোগ সম্পর্কে বক্তব্য জানতে দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিলন সাহাকে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরবর্তীতে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠানো হলেও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়দের মতে, গুরুত্বপূর্ণ এই হাটে দীর্ঘদিন ধরে একই ধরনের সমস্যা চললেও কার্যকর কোনো উন্নয়ন না থাকায় ক্রমেই হাটের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ঐতিহ্যবাহী এই পশুর হাট তার গুরুত্ব হারাতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।