যশোরে সন্তানের হাতে মা খুন,১৭ ঘন্টার মধ্যে হত্যাকারী মামুনুর রশিদ কে আটক করলো পিবিআই,যশোর।


Milon Hossain প্রকাশের সময় : অগাস্ট ২৯, ২০২৬, ৮:৪১ পূর্বাহ্ন /
যশোরে সন্তানের হাতে মা খুন,১৭ ঘন্টার মধ্যে হত্যাকারী মামুনুর রশিদ কে আটক করলো পিবিআই,যশোর।

মিলন হোসেন বেনাপোল প্রতিনিধি,
যশোর জেলার কোতয়ালী থানাধীন বাজেদূর্গাপুর সানিস্থ অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মোঃ আলতাফ হোসেনের স্ত্রী আনোয়ারা খাতুন (৫৫) পেশায় একজন গৃহিনী। গত ২৭/০৮/২০২৬ খ্রিঃ বিকাল অনুমান ০৪.০০ ঘটিকার সময় আনোয়ারা খাতুনের বড়ছেলে মোঃ মামুনুর রশিদ (৪৩) যশোর শহর হতে বাড়ীতে আসে এবং তার মা আনোয়ারা খাতুনের নিকট গোসল করার জন্য গামছা চায়। আনোয়ারা খাতুন গাছমা দিয়ে সন্তানের ভালো মন্দ শুনে খাবার গোছানোর জন্য ঘরের দিকে যাওয়ার জন্য পেছনে ঘোরার সাথে সাথে মামুনুর রশিদ পাশে থাকা ধারালো তরকারি কাটা বটি নিয়ে আনোয়ারা খাতুনের পিঠের উপর স্বজরে কোপ মারে।

তখন আনোয়ারা খাতুন মাটিতে পড়ে গেলে মামুনুর রশিদ  এলোপাতাড়ি কোপসহ মাথার মাঝ বরাবর, পিঠ এবং বাম হাতে একাধিক কোপ মারে। সর্বশেষ মামুনুর রশিদ আনোয়ারা খাতুনকে জবাই করে শরীর থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করে ফেলে রেখে ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়। কোতয়ালী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে  মৃতদেহের সুরতহাল প্রস্তুত করতঃ ময়না তদন্তের নিমিত্তে মৃতদেহ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল, যশোর প্রেরণ করে। উক্ত ঘটনা সংক্রান্তে পিবিআই, যশোর জেলার ক্রাইমসিন টিম তাৎক্ষণাৎ ঘটনাস্থলে গমণপূর্বক ছায়া তদন্ত অব্যাহত রাখে। ঘটনা সংক্রান্তে ভিকটিমের অপর ছেলে মঞ্জুর হাসান বাদী হয়ে অফিসার ইনচার্জ, কোতয়ালী মডেল থানা, যশোর বরাবরে অভিযোগ দায়ের করলে কোতয়ালী মডেল থানার মামলা নং-১১৭, তারিখ-২৮/০৮/২০২৬ খ্রিঃ, ধারা-৩০২ পেনাল কোড রুজু হয়। পরবর্তীতে পিবিআই যশোর জেলা স্ব-প্রণোদিত হয়ে মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে এবং এসআই (নিঃ) রতন মিয়া’কে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে নিযুক্ত করে।

পিবিআই প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মোঃ মোস্তফা কামাল এর সার্বিক দিক-নির্দেশনায় পুলিশ সুপার (অ্যাডিশনাল ডিআইজি পদে পদোন্নতি প্রাপ্ত) মোঃ কামরুজ্জামান, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), যশোর জেলা এর তত্ত্বাবধানে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তথ্য-প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত আসামীর অবস্থান শনাক্ত করে এবং তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই (নিঃ) রতন মিয়া, এসআই (নিঃ) মোঃ বাবুল ইসলামসহ পিবিআই যশোর জেলার চৌকস দল কর্তৃক পুলিশি অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে অদ্য ২৮/০৮/২০২৬ খ্রিঃ তারিখ সকাল ৯ টার সময় আসামী ০১। মোঃ মামুনুর রশিদ (৪৩), পিতা-মোঃ আলতাফ হোসেন, সাং-বাজেদূর্গাপুর, থানা-কোতয়ালী, জেলা-যশোরকে যশোর কোতয়ালী থানাধীন ৮নং দেয়াড়া ইউনিয়নস্থ তেঘরিয়া এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধৃত আসামী অত্র মামলার হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত মর্মে স্বীকার করে।

পিবিআই এর তদন্ত এবং গ্রেফতারকৃত আসামীর জবানবন্দি থেকে জানা যায়, ধৃত আসামী মোঃ মামুনুর রশিদ (৪৩) লাউজানি এন,এম, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ঝিকরগাছা, যশোর এর ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক। আসামী ৭/৮ বছর পূর্বে প্রথমে প্রেমের সম্পর্কের মাধ্যমে বিবাহ করে। কিন্তু পরিবারের লোকজনের সাথে বনিবনা না হওয়ার কারণে আসামীর ১ম স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে যায়। পরবর্তীতে ধৃত আসামী প্রায় ৩/৪ বছর পূর্বে ২য় বিয়ে করে। কিন্তু পূর্বের ন্যায় পরিবারের লোকজনের সাথে বনিবনা না হওয়ায় ২য় স্ত্রীও আসামীকে ছেড়ে চলে যায়। স্ত্রী চলে যাওয়ার পর আসামী তার নিজ বাড়ি ছেড়ে আসামীর কর্মস্থলের পাশে বাসা ভাড়া নিয়ে একা বসবাস করতো ও মাঝেমধ্যে বাড়িতে আসতো। দুইজন স্ত্রী চলে যাওয়ার জন্য ধৃত আসামী ভিকটিমকে দায়ী করে আসছিলো এবং উক্ত ধারণা থেকেই গত ২৭/০৮/২০২৬ তারিখ বিকাল অনুমান ০৪:০০ ঘটিকার দিকে আসামী তার নিজ বাড়িতে এসে বাড়ির উঠানে দাড়িয়ে আসামীর মা ভিকটিম আনোয়ারা খাতুন (৬৫) এর নিকট গোসলের জন্য গামছা চায়। ভিকটিম আনোয়ারা খাতুন (৬৫) তখন আসামীর সাথে ভালো মন্দ কথা বলে। ঐ সময় ভিকটিম আনোয়ারা খাতুন (৬৫) এর সহিত বসত বাড়ির উঠানে আসামী মামুনুর রশিদ এর পূর্বের দুই স্ত্রী আসামীকে ছেড়ে চলে যাওয়ার পিছনে তার মাকে দায়ী করে তর্কবিতর্ক হয়। তর্কবিতর্কের একপর্যায়ে ভিকটিম আনোয়ারা খাতুন (৬৫) ঘরের দিকে যাওয়ার জন্য পিছনে ঘোরার সাথে সাথে আসামী মোঃ মামুনুর রশিদ (৪৩) পাশে থাকা তরকারী কাটা বটি দিয়ে ভিকটিম আনোয়ারা খাতুন (৬৫) এর পিঠের উপরে স্বজোরে কোপ মারে। তখন ভিকটিম আনোয়ারা খাতুন (৬৫) মাটিতে পড়ে গেলে আসামী মোঃ মামুনুর রশিদ (৪৩) একই বটি দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপ মেরে ভিকটিমের মুখমন্ডল, মাথায় ও পিঠসহ বাম হাতে একাধিক কোপ মারে এবং সর্বশেষ একই বটি দিয়ে জবাই করে ভিকটিম আনোয়ারা খাতুন (৬৫) এর শরীর থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করে ফেলে ঘটনাস্থল পালিয়ে যায় মর্মে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়।

এ বিষয়ে পিবিআই, যশোর জেলা ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার মোঃ কামরুজ্জামান বলেন, অত্র মামলার ধৃত আসামী পেশায় একজন স্কুল শিক্ষক। পরিবারের লোকজনের সাথে বনিবনা না হওয়ার কারণে ধৃত আসামীর ১ম এবং ২য় স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে যাওয়ায় আসামী বিষয়টা স্বাভাবিকভাবে মেনে নিতে পারেনি। যার প্রেক্ষিতে আসামী তার নিজের বাড়ি ছেড়ে তার কর্মস্থলে বাসাভাড়া করে থাকতে শুরু করে। ধৃত আসামীর স্ত্রীদ্বয় তাকে ছেড়ে চলে যাওয়ার পেছনে তার মায়ের (ভিকটিমের) ভূমিকা রয়েছে মর্মে ধারণা হয় এবং উক্ত বিষয় নিয়ে ধৃত আসামী বাড়িতে আসলে প্রায়ই ভিকটিমের সাথে ঝগড়া বিবাদে লিপ্ত হতো। এর প্রেক্ষিতে অত্র মামলার ঘটনার দিন ও সময়ে ধৃত আসামী বাড়িতে এসে তার মাকে (ভিকটিম) তরকারী কাটা দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপিয়ে এবং দেহ থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করে হত্যা করে পালিয়ে যায়। ধৃত আসামী হত্যাকান্ড সংঘটিত হওয়ার পরপরই তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ করে দেয় এবং আত্মগোপনে চলে যায়। স্থানীয় তদন্ত ও তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় হত্যাকান্ড সংঘটিত হওয়ার ১৭ ঘন্টার মধ্যেই আসামী মামুনুর রশিদকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃত আসামীকে জিজ্ঞাসাবাদশেষে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হবে।