
ফাহিম হোসেন রিজু
ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) প্রতিনিধি:
দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে পূর্ব শত্রুতার জেরে এক সংখ্যালঘু আদিবাসী নারী ও তার ৩ বছরের শিশু সন্তান এবং স্বজনদের ওপর বর্বর হামলা, নির্যাতন ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে। গত ১৯ জুন সংঘটিত এই নৃশংস ঘটনার প্রেক্ষিতে ভুক্তভোগী নারী শ্রীমতি দ্বিনুকা টুডু রিনা (২৬) বাদী হয়ে দিনাজপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে (ঘোড়াঘাট) ৭ জনের নাম উল্লেখসহ আরও ৪-৫ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির বিরুদ্ধে একটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করেছেন।
আদালতের এজাহার ও মামলার আরজি সূত্রে জানা যায়, বাদী দ্বিনুকা টুডু রিনা ঘোড়াঘাট উপজেলার আবিরের পাড়া গ্রামের বাসিন্দা। গত ১৯ জুন (শুক্রবার) বাদীনির খালাতো ভাই শ্রী রতন মার্ডি একজন অটো ভ্যান চালককে সাথে নিয়ে বাদীনির বাড়িতে বেড়াতে আসেন। তারা বাড়িতে অবস্থান করার সময় থেকেই স্থানীয় প্রতিপক্ষরা পূর্ব শত্রুতার জের ধরে অহেতুক গালিগালাজ শুরু করে এবং বাদিনী এর প্রতিবাদ করলে আসামিরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ওই দিন রাত আনুমানিক ৯টার দিকে বাদীনির খালাতো ভাই ও ভ্যান চালক নিজ বাড়িতে ফেরার উদ্দেশ্যে রওনা হলে ১নং আসামি মোঃ জয়নুদ্দিনের বাড়ির সামনের রাস্তায় আসামিরা দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তাদের পথরোধ করে এবং ভ্যান থেকে নামিয়ে এলোপাথারি মারধর করতে থাকে।
তাদের চিৎকার শুনে বাদিনী দ্বিনুকা টুডু তার ৩ বছরের শিশুপুত্র আরিয়ানসহ ঘটনাস্থলে ছুটে গেলে আসামিরা আরও উগ্র রূপ ধারণ করে। ২নং আসামি মিস্টার আলী বাদনীকে পেছন থেকে জাপটে ধরে মাটিতে ফেলে দেয় এবং ১নং ও ২নং আসামি বাদীনির দুই পা চেপে ধরে। এই অবস্থায় ৬নং আসামি তৌহিদুল ইসলাম বাদীনির বুকে লাথি মারে এবং ৩নং আসামি হান্নান শেখ বাঁশের লাঠি দিয়ে বাদীনির বুকে ও পিঠে উপর্যুপরি আঘাত করে গুরুতর জখম করে।
নৃশংসতার এক পর্যায়ে ৪নং আসামি আমাজ্জল হোসেন বাদীনির ৩ বছরের অবুঝ শিশুপুত্রকে কোল থেকে কেড়ে নিয়ে মাটিতে আছাড় মারে, যার ফলে শিশুটির ডান পাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক কালশিরা জখম হয়। এছাড়াও ২নং আসামি মিস্টার আলী বাদীনির গলা থেকে ১ লক্ষ টাকা মূল্যের ৮ আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেয় এবং কাপড় টেনেহিঁচড়ে শ্লীলতাহানি ঘটায়।
বাদিনী ও সাক্ষীদের আর্তচিৎকারে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে এলে আসামিরা মামলা করলে খুন করে লাশ গুম করার হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরবর্তীতে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে ঘোড়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান। হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা শেষে বাদিনী ঘোড়াঘাট থানায় মামলা করতে গেলে থানা কর্তৃপক্ষ তাকে সরাসরি আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেন, যার কারণে আদালতে আরজি পেশ করতে কিছুটা বিলম্ব হয় বলে বাদনী জানান।
বাদিনী আদালতে দণ্ডবিধি আইনের ১৪৩/৪৪৭/৩২৩/৩৭৯/৩৫৪/৫০৬(II)/১১৪/৩৪ ধারার বিধান মোতাবেক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী পূর্বক ন্যায়বিচারের আবেদন জানিয়েছেন।
মামলার নামীয় আসামিরা হলেন— মোঃ জয়নুদ্দিন (৩২), মোঃ মিস্টার আলী (৩২), মোঃ হান্নান শেখ (২২), মোঃ আমাজ্জল হোসেন (৪৮), মোঃ আশাদুল ইসলাম (২৮), মোঃ তৌহিদল ইসলাম (৪৫) এবং শ্রী গোবিন্দ (২২)। তারা সকলেই ঘোড়াঘাটের আবিরের পাড়া গ্রামের বাসিন্দা।
আপনার মতামত লিখুন :