
মিলন হোসেন বেনাপোল প্রতিনিধি ,
বেনাপোল শার্শা মাদকের আগ্রাসনে ধ্বংসের মুখে পড়ছে তরুণ সমাজ। বিশেষ করে ভারতীয় নিষিদ্ধ সিরাপ, মদ ও ইয়াবাসহ অন্যান্য মাদকের কারণে ১৯ থেকে ৩২ বছর বয়সী যুবকরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।পারিবারিক বন্ধন ও নৈতিক শিক্ষার অভাব, সহজে মাদক প্রাপ্তি এবং কিশোর গ্যাং সংস্কৃতির কারণে এই সংকট দিন দিন বাড়ছে।
উপজেলার বিভিন্ন স্থানে মাদক বেচাকেনা কোনোভাবেই বন্ধ না হওয়ার পেছনে ভৌগোলিক অবস্থান, রাজনৈতিক প্রভাব এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু সদস্যের পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষ সহযোগিতা প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করছে। সামাজিক প্রভাব তরুণ প্রজন্ম ও শিক্ষার্থীরা মাদকে আসক্ত হয়ে পড়া পারিবারিক অশান্তি, কলহ ও মূল্যবোধের অবক্ষয়, চুরি, ছিনতাই, মারামারি ও খুনসহ নানা অপরাধ বৃদ্ধি।
বাংলাদেশকে টার্গেট করে সীমান্তবর্তী এলাকায় জোরদার শুরু করেছে মাদক ব্যবসায়ীরা। সেখান থেকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে এদেশে মাদকের চালান।
বিজিবি,র্যাব-পুলিশের অভিযানে প্রতিদিনই ধরা পড়ছে ভারত থেকে আসা মাদকের চালান। তবে বেশি ভাগ মাদকের চালান নিরাপদে চলে যাচ্ছে গন্তব্যে।
নিত্যনতুন কৌশলে হচ্ছে মাদক পাচার। বিক্রি হচ্ছে উপজেলা বিভিন্ন অঞ্চলে। হাত বাড়ালেই মিলছে নেশা। আর তাতে বেড়েই চলেছে আসক্তের সংখ্যা।
মাদকাসক্তির সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে অপরাধ।বিভিন্ন শহর এলাকায় মাদকাসক্তদের উৎপাত দেখা যেত। এখন পল্লীগাঁয়েও মাদকাসক্তদের দাপট।
মাদকাসক্তের হাতে স্বজন খুনের ঘটনা ঘটছে। ছিনতাই, ডাকাতি, দস্যুতার ঘটনায় জড়িতদের বিরাট অংশ মাদকাসক্ত।
প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলেন,নেশার সাথে অপরাধের গভীর সম্পর্ক। নেশাগ্রস্তরা নেশার টাকা জোগাতে খুন, ছিনতাইসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। মাদক ব্যবসার আধিপত্য বিস্তারেও চলছে খুনোখুনি, দাঙ্গা-হাঙ্গামা। নিয়মিত মাদক বিরোধী অভিযান চলছে উল্লেখ করে তারা বলেন, মাদক বহনকারীদের পাশাপাশি এর পেছনে যারা তাদেরও চিহ্নিত করার চেষ্টা করছে প্রশাসন।
উপজেলায় বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশ্যে মাদকের হাট বসছে। আসক্তরা সেখানে মাদক সেবন করেন। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এবং র্যাব,বিজিবি ও পুলিশ মাঝে মধ্যে ওইসব এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানে কিছু মাদকসেবীকে জরিমানা করা হলেও সবকিছু চলে আগের মতো। মাদকাসক্তদের সুপথে ফিরিয়ে আনারও তেমন উদ্যোগ নেই। উপজেলাতে মাদকাসক্তের সংখ্যা কত তার হিসাব কারও কাছে এখন পর্যন্ত জানা নেই।সুধী সমাজবলছেন, পারিবারিক বন্ধন শিথিল হয়ে যাওয়ায় শিশু-কিশোররা বিপথগামী হয়েছে অনেক বেশি।
বিগত ১৭ বছর রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় গড়ে ওঠা কিশোর গ্যাঙয়ের মাধ্যমে নেশায় জড়িয়ে পড়ছে তরুণ ও যুবসমাজ।মাদকের উৎস বন্ধ, মাদকাসক্তের চিকিৎসা এবং সর্বোপরি মাদকবিরোধী ব্যাপক সামাজিক তাগিদ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
বর্তমান বিএনপি সরকার মাদক বন্ধ করতে কাজ শুরু করেছে। সীমান্তের কয়েকটি পয়েন্ট দিয়ে বিভিন্ন কৌশলে মাদক পাচার করা হচ্ছে ।মাদক আসছে সীমান্ত গুলো রুদ্রপুর,গোগা,পুটখালী,দৌলতপুর, শালকোনা,কাশিপুর ও অগ্রভুলোট।এ সমস্ত এলাকা থেকে প্রতিদিনেই ভারত থেকে আসা মাদকদ্রব্য আটক করেছে প্রশাসন।
উপজেলাতে অন্তত ১০০টি স্পটে মাদক বেচাকেনা হয়।এর মধ্যে রয়েছেন গ্রাম অঞ্চল বাজারের অনেক চায়ের দোকান।মাঝে মধ্যে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর আটক করে ম্যাজিস্ট্রেট এর মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরন করলেও জেল থেকে ছাড়া পেয়ে আবার শুরু করেন।
মাদক সেবনকারী তরুণদের একটি বড় অংশের কাছে এখন সবচেয়ে বেশি চাহিদা মাদকদ্রব্য ।আসক্তির দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করছে ফেনসিডিল। তবে প্রথম স্থানে অবস্থানকারী মরণ নেশা ইয়াবা। মাদকাসক্তদের ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ ইয়াবায় আসক্ত। তৃতীয় স্থানে আছে গাঁজা,চতুর্থ স্থানে ভারতীয় নেশা জাতীয় সিরাপ এসকাফ ।
বছর কয়েক ধরে ইয়াবা যেভাবে মহামারী রূপ নিয়েছে তাতে বিশেষজ্ঞদের মতে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযানের পাশাপাশি ইয়াবার কুফল সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে কাজ করলেও কোনো সুফল আসেনি।
এখন থেকে এটা প্রতিরোধ করা না গেলে তরুণ প্রজন্ম শেষ হয়ে যাবে। দেশে মাদকের শীর্ষে রয়েছে ইয়াবা ও গাজা।যারা নেশার সাথে জড়িত বয়স তাদের চৌদ্দ থেকে বিশ বছর। কেউ পড়ে ইংলিশ মিডিয়ামের ক্লাস এইটে, কেউ আবার এইচএসসি প্রথম বর্ষে।তাদের ভাষায় ইয়াবা সেবন এবং পরে অসামাজিক কাজে জড়িয়ে পড়াটা ‘জাস্ট এনজয়’।
শার্শা বেনাপোল বিশিষ্ট ব্যক্তিরা বলেন,পারিবারিক বন্ধন শিথিল, ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার অভাবে শিশু-কিশোররা বিপথে যাচ্ছে। কিশোর গ্যাঙ কালচারের সাথে মাদক যুক্ত হওয়ায় কম বয়সে অনেকে আসক্ত হয়ে পড়ছে। আগামী প্রজন্মকে নেশার নীল ছোবল থেকে বাঁচাতে হলে পারিবারিক বন্ধন, নৈতিক মূল্যবোধের শিক্ষা এবং সামাজিক প্রতিরোধের কোনো বিকল্প নেই।
বেনাপোল পোর্ট থানা ও শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আশরাফ হোসেন ও শামিনুল হক বলেন,ইয়াবা ফেনসিডিলসহ সব ধরনের মাদক পাচার রোধে পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে।নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। জোরদার অভিযান চলছে। প্রতিনিয়তই মাদকের চালান উদ্ধার হচ্ছে। আশা করি মাদকের আগ্রাসন ধীরে ধীরে কমে আসবে।
প্রেরক
মিলন হোসেন বেনাপোল
তারিখ ২৮ /০৮/২০২৬
মোবাইল ০১৭১২২১৭১৪৩
আপনার মতামত লিখুন :