বেনাপোল পুটখালী ইউনিয়ন পরিষদে জন্ম নিবন্ধন সনদের ফি ৫০ টাকা,গুনতে হয় ৫শ’ থেকে হাজার টাকাও।


Milon Hossain প্রকাশের সময় : জুলাই ১৫, ২০২৬, ৮:১৯ অপরাহ্ন /
বেনাপোল পুটখালী ইউনিয়ন পরিষদে জন্ম নিবন্ধন সনদের ফি ৫০ টাকা,গুনতে হয় ৫শ’ থেকে হাজার টাকাও।

স্টাফ রিপোর্টার,
জন্ম নিবন্ধন সনদ নিয়ে বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে যশোরের শার্শা উপজেলার পুটখালী ইউনিয়ন পরিষদের অফিস সহকারী ও কম্পিউটার অপারেটর ইয়াকুব আলীর বিরুদ্ধে।সরকারি নিয়মনীতি না মেনে জন্মসনদ প্রতি ৫শ’ থেকে ২ হাজার টাকা আদায় করছেন তিনি। এমনকি জন্ম নিবন্ধনের সনদে বয়স সংশোধনের ক্ষেত্রে ৩ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা দাবি করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

জেলা পরিসংখ্যান অফিস সূত্রে জানা গেছে, সরকার জন্ম বা মৃত্যুর ৪৫ দিন পর্যন্ত কোনো ব্যক্তির জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন বিনা ফি’তে দেওয়া বিধান রেখেছে। শিশুর বয়স ৫ বছর পর্যন্ত ২৫ টাকা ও ৫ বছরের ওপরে সব বয়সীদের ক্ষেত্রে জন্ম নিবন্ধন ফি ৫০ টাকা নির্ধারণ করেছে। এছাড়া জন্ম নিবন্ধনের জন্ম তারিখ সংশোধনের আবেদন ফি ১ শ’ টাকা নির্ধারণ করেছে সরকার ।

জন্মনিবন্ধন নিতে আসা দৌলতপুর গ্রামের সোহাগ হোসেনের অভিযোগ,ইউনিয়ন পরিষদের অফিস সহকারী ও হিসাব সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর ইয়াকুব আলী জন্ম সনদ ডিজিটাল করতে ১ হাজার নিয়ে থাকেন। এছাড়া বয়স সংশোধনে ৩ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা দাবি করেন।

পুটখালী ইউনিয়নের বাসিন্দা ফাতিমা খাতুন জানান,আমার ১৮ বছর বয়সী মেয়ের জন্ম নিবন্ধনের জন্য সার্টিফিকেটসহ অন্যান্য কাগজপত্র জমা দিয়েছি। আমাকে এক সপ্তাহ পরে আসতে বলে হিসাব সহকারী ইয়াকুব আলী। এক সপ্তাহ পরে গেলে বলে জন্ম নিবন্ধন করতে ২ হাজার টাকা দাবি করেন। তাই জন্ম নিবন্ধন না করেই বাড়ি ফিরে আসি।

ইউনিয়নের দক্ষিণ বারোপোতা গ্রামের সোমা খাতুন বলেন, ১৮ বছর বয়সী মেয়ে ও আমার জন্ম নিবন্ধন করতে গিয়ে ইয়াকুব আলীকে ৭শ’ টাকা দিয়েছি। কিন্তু দুই মাস ধরে ঘুরে ও সেই জন্ম নিবন্ধন এখনো পাইনি।

তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত পুটখালী ইউনিয়নের হিসাব সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর ইয়াকুব আলী অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, জন্মনিবন্ধনের জন্য সরকার নির্ধারিত ফি ৫০ টাকা। সেখানে ১০০ টাকা নিচ্ছি। আর ১০০ টাকার ফি ১৫০ বা ২শ’ টাকা নেয়া হয়। কিছু ব্যক্তি বা পরিবারের সদস্যদের জন্ম নিবন্ধন আমরা সরকারি ফি ছাড়াই দেই। তাই সেই টাকা ‘অ্যাডজাস্ট’ করতে অন্যদের কাছ থেকে  একটু ‘বাড়তি রেট’ নিতে হয়। তবে ৩ হাজার ৫ হাজার টাকা দাবির বিষয়টি তিনি সত্য নয় বলে জানান। তবে আমি সচিব শ্রী চঞ্চল কুমারের কথা মতো কাজ করে থাকি উনি যেভাবে লেনদেন করতে বলেন ওভাবে আমি কাজ করি।

এ বিষয়ে শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফজলে ওয়াহিদ বলেন,কিছু কিছু মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারলাম। সরকার নির্ধারিত ফি থেকে বেশি টাকা নেওয়া অপরাধ। সেখানে সেবা গ্রহীতাদের হয়রানি করা হয় কিনা,তা খতিয়ে দেখা হবে। এ বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পেলে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।জন্ম সনদে অতিরিক্ত টাকা আদায় করে কেউ পার পাবে না বলেও জানান তিনি।