ঘোড়াঘাটে আফরোজা ফুডে অবৈধভাবে বিএসটিআই লোগো ব্যবহার ও নোংরা পরিবেশে খাদ্য উৎপাদনের অভিযোগ


Desk News প্রকাশের সময় : অগাস্ট ১৭, ২০২৬, ৩:০২ অপরাহ্ন /
ঘোড়াঘাটে আফরোজা ফুডে অবৈধভাবে বিএসটিআই লোগো ব্যবহার ও নোংরা পরিবেশে খাদ্য উৎপাদনের অভিযোগ

ফাহিম হোসেন রিজু
ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) প্রতিনিধি:

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে ‘আফরোজা ফুড অ্যান্ড প্রসেসিং লিমিটেড’ নামে একটি বেকারি কারখানার খাদ্যপণ্য তৈরির পরিবেশ নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। বিএসটিআই (BSTI)-এর কোনো বৈধ অনুমোদন ছাড়াই পণ্যের প্যাকেটে অবৈধভাবে মানচিহ্ন ব্যবহার এবং চরম অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বেকারি সামগ্রী উৎপাদনের অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে কারখানাটির প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ও প্রশাসনিক বৈধতা রয়েছে কি না—তা নিয়েও স্থানীয়দের মনে সংশয় দেখা দিয়েছে।

রবিবার (১৬ আগস্ট) বিকালে উপজেলার দামোদরপুর শৌলা এলাকায় অবস্থিত ওই কারখানাটিতে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে তৈরি করা হচ্ছে বিস্কুট, রুটি, পেটিস, কেকসহ বিভিন্ন ধরনের বেকারি খাদ্যপণ্য। কারখানাটিতে খাদ্যদ্রব্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সাজিয়ে রাখার জায়গায় চরম নোংরা পরিবেশ লক্ষ্য করা গেছে। কেবল নোংরা পরিবেশই নয়, খাদ্যপণ্যের স্থায়িত্ব ও রং আকর্ষক করতে মেশানো হচ্ছে অননুমোদিত ক্ষতিকর কেমিক্যাল ও রং, যা মানবদেহের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। বিএসটিআই-এর অনুমোদন না থাকা সত্ত্বেও প্যাকেটে অবৈধভাবে মানচিহ্ন ব্যবহার করে বাজারে বাজারজাত করা হচ্ছে এসব পণ্য।

ঘটনার বিবরণ জানতে আফরোজা ফুড অ্যান্ড প্রসেসিং লিমিটেড কর্তৃপক্ষের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে প্রতিষ্ঠানটির মালিক ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেন। পরিচয় জানতে চাইলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন, “আমার নাম জাহান্নামের চৌরাস্তা বলেন।” পরবর্তীতে নোংরা পরিবেশ ও বিএসটিআই অনুমোদনের নথি দেখতে চাইলে তিনি বলেন, “আপনারা গণমাধ্যমকর্মী হলেও আপনাদেরকে বিএসটিআই-এর অনুমোদনপত্র দেখানোর প্রয়োজন মনে করছি না। আমরা অনুমোদনের জন্য আবেদন করেছি, তবে কাগজ এখনো হাতে পাইনি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি বুঝবেন। আর আমি আপনাদের কোনো তথ্য বা কাগজ দিতে বাধ্য নই।”

এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আব্দুল আল মামুন কাউসার শেখ বলেন, “অনুমোদনহীন ও নোংরা পরিবেশে খাদ্যপণ্য তৈরির সুযোগ নেই। যদি বিএসটিআই-এর লোগো অবৈধভাবে ব্যবহার করা হয়ে থাকে এবং লাইসেন্স ব্যতিরেকে কারখানা চালানো হয়, তবে তা গুরুতর অপরাধ। আমরা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছি। দ্রুতই ওই কারখানায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”