
ফাহিম হোসেন রিজু
ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) প্রতিনিধি:
দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে ছাগলসহ হাতেনাতে আটক হওয়া আন্তঃজেলা চোর চক্রের এক সদস্যকে থানা হাজত থেকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আটক চোরের চাচার রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এবং পুলিশের একটি প্রভাবশালী দালাল সিন্ডিকেটের মাধ্যমে তাকে পার করে দেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। পুলিশের এমন ভূমিকা ও দালালদের দাপটে চরম ক্ষোভে ফুঁসছেন গাইবান্ধার কামদিয়া ও দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটের সাধারণ মানুষ।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার (২৬ জুন) সকালে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কামদিয়া রাস্তার পাশ থেকে তৌফিক মিয়া নামের এক ব্যক্তির একটি ছাগল মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে পালাচ্ছিল চোর চক্রের সদস্যরা। অভিযুক্ত চোর হলো ঘোড়াঘাট পৌরশহরের দক্ষিণ নয়াপাড়া গ্রামের ফরহাদ হাসানের ছেলে মেহেদী হাসান (২৫) ও তার এক সহযোগী। বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয় জনতা ঘোড়াঘাট থানা পুলিশকে খবর দেয়। পরে ওইদিন দুপুরেই ঘোড়াঘাট থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে ছাগল ও চুরির কাজে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলসহ মেহেদী হাসানকে হাতেনাতে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।
অভিযোগ উঠেছে, মেহেদী হাসান আটক হওয়ার পর থেকেই থানায় শুরু হয় দালালদের নজিরবিহীন দৌড়ঝাঁপ। মেহেদীর চাচা স্থানীয় রাজনীতিতে যুক্ত থাকার সুবাদে রাতারাতি সক্রিয় হয়ে ওঠে একটি প্রভাবশালী দালাল সিন্ডিকেট। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে এবং পুলিশকে ‘ম্যানেজ’ করতে পর্দার আড়ালে বিপুল অঙ্কের লেনদেন ও রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগ করা হয়।
অন্যদিকে, ভুক্তভোগী ছাগল মালিক তৌফিক মিয়ার বাড়ি পাশের উপজেলার কামদিয়ায় হওয়ায়, চোর চক্র ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের রাজনৈতিক হুমকিতে তিনি চরম আতঙ্কের মধ্যে পড়েন। ভুক্তভোগীর এই অসহায়ত্ব এবং ভীতিকে পুঁজি করেই দালাল চক্র তাদের মিশন সফল করে বলে অভিযোগ উঠেছে।
আইনানুযায়ী, আমলযোগ্য অপরাধে হাতেনাতে আটক চোরের বিরুদ্ধে পুলিশের পক্ষ থেকে নিজে বাদী হয়ে মামলা করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও, অজ্ঞাত কারণে মেহেদীকে শুক্রবার রাত ১১টার দিকে থানা থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
ছাগলসহ আটক চোরকে এভাবে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় এলাকায় চোর ও দালাল চক্রের দাপট আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। কামদিয়া ও ঘোড়াঘাটের একাধিক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “যদি চোরকে ছাগল ও মোটরসাইকেলসহ হাতেনাতে ধরার পরও রাজনৈতিক পরিচয়ের জোরে ছেড়ে দেওয়া হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়? পুলিশ যদি দালালদের কথায় চোর ছেড়ে দেয়, তবে আমরা কার কাছে যাব?”
এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে ও পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) মো. শহিদুল ইসলামের সাথে হোয়াটসঅ্যাপে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
ফাহিম হোসেন রিজু
ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) প্রতিনিধি:
২৭/০৬/২০২৬
০১৮৯৩২১২৫৭৪
আপনার মতামত লিখুন :