
কাজী ওমর ফারুক,মোংলা
সুন্দরবনের কুখ্যাত বনদস্যু ছোট সুমন বাহিনীর প্রধান সুমনসহ ৭ সদস্য অস্ত্র ও গুলি জমা দিয়ে কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন সদর দপ্তর চত্বরে আনুষ্ঠানিকভাবে এই আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠিত হয়।
আত্মসমর্পণের সময় বাহিনীর সদস্যরা ৫টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ২৫ রাউন্ড তাজা গুলি কোস্ট গার্ডের জোনাল কমান্ডার ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মেজবা উল ইসলামের কাছে জমা দেন।
এ সময় কোস্ট গার্ড, বিজিবি, পুলিশ, বন বিভাগ, র্যাবসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন জানায়, সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করতে চলমান বিশেষ অভিযান ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ এবং ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’-এর ধারাবাহিকতায় দস্যু বাহিনীগুলো চাপের মুখে পড়ে। এরই অংশ হিসেবে ছোট সুমন বাহিনী আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত নেয়।
এর আগে গত ১৭ মে রাত ১১টার দিকে মোংলার নন্দবালা খাল সংলগ্ন এলাকায় অনানুষ্ঠানিকভাবে তারা অস্ত্রসহ কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করে বলে জানানো হয়। পরে বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।
কোস্ট গার্ডের তথ্য অনুযায়ী, আত্মসমর্পণের পর তাদের কাছ থেকে ৩টি একনলা বন্দুক, ২টি পাইপগান, ২৫ রাউন্ড তাজা গুলি ও ৩ রাউন্ড ফাঁকা গুলি উদ্ধার করা হয়।
আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে রয়েছে সুমন হাওলাদার (৩২), রবিউল মল্লিক (২৫), রফিক শেখ (২৯), সিদ্দিক হাওলাদার (৪০), গোলাম মল্লিক (৩৮), ইসমাইল খান (৩১) ও মাহফুজ মল্লিক (৩৪)।
কোস্ট গার্ড আরও জানায়, অভিযানের আওতায় গত ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ২৬টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, বিপুল পরিমাণ গুলি ও কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে। একই সময়ে ২১ জন বনদস্যুকে আটক এবং জিম্মি থাকা ২০ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
এর আগে ২০১৮ সালেও ছোট সুমন বাহিনী র্যাবের কাছে আত্মসমর্পণ করেছিল।
আপনার মতামত লিখুন :