সাতক্ষীরায় গ্রাম আদালত শক্তিশালী করার উদ্যোগ: ‘মানুষ যেন ঘরে বসেই বিচার পায়’


Desk News প্রকাশের সময় : এপ্রিল ১৫, ২০২৬, ৭:০৭ পূর্বাহ্ন /
সাতক্ষীরায় গ্রাম আদালত শক্তিশালী করার উদ্যোগ: ‘মানুষ যেন ঘরে বসেই বিচার পায়’

জিয়াউল ইসলাম জিয়া বিশেষ প্রতিনিধি : সাধারণ মানুষের আইনি অধিকার নিশ্চিত করতে এবং গ্রাম আদালতকে কার্যকর করতে সাতক্ষীরায় অংশীজনদের নিয়ে এক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (১৩ এপ্রিল) বেলা ১১টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এই সভার আয়োজন করা হয়। সভায় বক্তারা প্রান্তিক পর্যায়ে গ্রাম আদালতের সুফল পৌঁছে দিতে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) শেখ মঈনুল ইসলাম মঈন। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, “গ্রাম আদালত সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় ন্যায়বিচার পৌঁছে দেওয়ার এক বড় মাধ্যম। সাধারণ মানুষ যাতে সঠিক বিচার পায় এবং তাদের হয়রানি কমে, সেদিকে আমাদের লক্ষ্য রাখতে হবে।” গ্রাম আদালতের ক্ষমতায়ন ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে সরকারি দপ্তরের পাশাপাশি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোকেও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (৩য় পর্যায়) প্রকল্পের জেলা ব্যবস্থাপক মো. হাফিজুর রহমান সভায় সাতক্ষীরা জেলায় গ্রাম আদালতের বর্তমান পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে কীভাবে প্রান্তিক মানুষকে সচেতন করা যায় এবং আইনি জটিলতা কমিয়ে দ্রুত বিরোধ নিষ্পত্তি করা সম্ভব, তা নিয়ে কাজ করছে এই প্রকল্প। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনাও করেন তিনি।
সভায় উপস্থিত বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধান ও বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা জানান, তাঁরা নিয়মিতভাবে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের কর্মসূচি ও সুবিধাভোগীদের মাঝে গ্রাম আদালতের বার্তা পৌঁছে দিচ্ছেন। জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, সমাজসেবা অধিদপ্তর, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, ইসলামিক ফাউন্ডেশন এবং জেলা তথ্য অফিসের উপপরিচালকেরা সভায় উপস্থিত থেকে এই কার্যক্রমের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেন।
সমন্বয় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক, ক্যাবল নেটওয়ার্ক প্রতিনিধি এবং গ্রাম আদালত প্রকল্পের সাতক্ষীরা সদর উপজেলার সমন্বয়কারী শেখ মুরাদুল হক ও নার্গিস সুলতানা। বক্তারা মনে করেন, সঠিক প্রচারের মাধ্যমে গ্রাম আদালতকে জনপ্রিয় করতে পারলে উচ্চ আদালতের ওপর মামলার চাপ যেমন কমবে, তেমনি গ্রাম পর্যায়ে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় থাকবে।