
মিলন হোসেন বেনাপোল প্রতিনিধি,
বেনাপোল কাস্টমস হাউজের চোর সিন্ডিকেটের প্রধান কাস্টমস সিপাই কামাল শিকদার ও কাস্টমসের নাইটগার্ড আরিফ হোসেন প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে পণ্য পাঠানোর নাম করে কোটি টাকার উচ্চ শুল্কের বাণিজ্যিক পণ্য পাচারের এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে।
এই জালিয়াতি ও চোরাচালান চক্রের সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে বেনাপোল কাস্টমস হাউজের সিপাই কামাল শিকদার এবং কাস্টমস হাউসের নাইট গার্ড আরিফ হোসেন। এ ঘটনায় বেনাপোল কাস্টমস হাউসের এক রাজস্ব কর্মকর্তাসহ তিনজনকে আটক করলেও এর মূলহোতা সিপাই কামাল শিকদার ও নাইটগার্ড আরিফ রয়েছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।
অভিযোগ উঠেছে গত তিনমাস আগে গভীর রাতে নাইটগার্ড আরিফ ও সিপাই কামাল শিকদার কাস্টমসের হেফাজতে থাকা বিজিবির গোডাউন থেকে পন্য চুরির চেষ্টা করা হচ্ছিল। পর আনসার সদস্যরা তা দেখে ফেললে ভেস্তে যায়। নাইটগার্ড আরিফ ও সিপাই কামাল শিকদার দীর্ঘদিন ধরে অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র জানায়।যা সিসিটিভি চেক করলে সব পাওয়া যাবে।
জানা যায়, প্রতিদিন বেনাপোল চেকপোষ্ট কাস্টমস এবং বিজিবি সদস্যরা যাত্রীদের ব্যাগ তল্লাশি করে বিপুল পরিমাণ পন্য আটক করে। ওই পন্য কাস্টমসের হেফাজতে রক্ষিত থাকে। এর দুটি পৃথক গোডাউন রয়েছে। একটিতে থাকে বিজিবি কর্তৃক জব্দকৃত পন্য আর অন্যটিতে রাখা হয় কাস্টমস কর্তৃক আটককৃত মালামাল।এসমস্ত মালামাল দেখভালের দায়িত্ব থাকে নাইটগার্ড এবং সিপাইদের পাশাপাশি নাইটগার্ড আরিফ এবং সিপাই কামালের।
জানা যায়,জব্দকৃত ওই সমস্ত মালামাল গোডাউনে পচেঁগলে নষ্ট হলেও সময়মতো এর কোন সঠিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়না। আর এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সিপাই কামাল শিকদার এবং নাইটগার্ড আরিফ প্রায় রাতে ওই গোডাউন থেকে দামি পন্য গুলো চুরি করে বাইরে বিক্রি করে থাকে। যা থেকে তাদের মোটা অংকের টাকা ইনকাম হয়।আর এই পন্য চুরি করে তাদের নিজ এলাকায় গড়ে তুলেছেন সম্পদের পাহাড়। যা দুর্নীতি দমন কমিশন তদন্ত করলে সব বেড়িয়ে পড়বে।নাম প্রকাশ না করার শর্তে অনেকেই বলেছেন যদি সিপাহি কামাল ও নাইটগার্ড আরিফ কে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় তাহলে এ পর্যন্ত যত মালামাল চুরি হয়েছে সব বেড়িয়ে পড়বে।
সোমবার (২২ জুন) দিবাগত রাত দুইটার দিকে বিভিন্ন সময়ে বিজিবির অভিযানে উদ্ধারকৃত এবং চেকপোস্ট কাষ্টমসে যাত্রীদের কাছ থেকে সিজারকৃত পন্য বেনাপোল কাস্টমস গোডাউনে রক্ষিত ভারতীয় মালামাল প্রধানমন্ত্রী ত্রাণ তহবিলের পাঠানোর নাম করে চুরি করে পাচারের সময় পণ্য চালানটি বেনাপোল বাজার থেকে আটক করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি)।
এ ঘটনায় বেনাপোল কাস্টমস হাউসে কর্মরত রাজস্ব কর্মকর্তা শ্রী ইন্দ্রজিৎ মুখার্জী (৩৮), ট্রাকের চালক মো. মহসিন আলী (৩৪) ও হেলপার মো. জাহিদ হাসান (২১) আটক হলেও এর মূলহোতা সিপাই কামাল ও নাইট আরিফ এখনও রয়েছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। এদেরকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে থলের বিড়াল বেরিয়ে আসবে বলে মনে সংশ্লিষ্টরা।
বেনাপোল কাস্টমস হাউসের গোডাউন সহকারী কমিশনার রাহাত হোসেনের কাছে পন্য চুরিতে সিপাই কামাল এবং নাইটগার্ড আরিফের হাত রয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন এ ব্যাপারে আমার কিছু জানা নেই। তবে তদন্ত করে দেখে যদি তাদের সংশ্লিষ্টতা থাকে তাহলে সিপাই কামাল এবং নাইটগার্ড আরিফের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা হবে।
আপনার মতামত লিখুন :