বেনাপোল বন্দরে আমদানিকৃত পন্যে আনা মিথ্যা ঘোষণার ৩৬৭৫ কেজি ভায়াগ্রার চালান আটক।


Milon Hossain প্রকাশের সময় : জুলাই ১১, ২০২৬, ১১:২৩ পূর্বাহ্ন /
বেনাপোল বন্দরে আমদানিকৃত পন্যে আনা মিথ্যা ঘোষণার ৩৬৭৫ কেজি ভায়াগ্রার চালান আটক।

মিলন হোসেন বেনাপোল প্রতিনিধি,
যশোরের শার্শা উপজেলার বেনাপোল স্থলবন্দরে ভারত থেকে আমদানিকৃত পন্যের আড়ালে আনা ঘোষণা বহির্ভূত বিপুল পরিমাণ ভায়াগ্রার চালান আটকের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের অনুরোধে বেনাপোল বন্দর কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট শেডগুলোতে সার্বক্ষনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

কাস্টমস সূত্রে জানা যায়, আটককৃত ৩ হাজার ৬৭৫ কেজি ভায়াগ্রার চালানটি বন্দরের ৩২ নম্বর পণ্যাগারের শেডে রাখা হয়েছে। এর আগে গত ১ জুলাই বেনাপোল কাস্টমস হাউসের সহকারী কমিশনার অতল গোস্বামী স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বন্দর কর্তৃপক্ষকে অবৈধভাবে পণ্য সরিয়ে নেয়ার শঙ্কার কথা জানিয়ে নিরাপত্তা জোরদারের অনুরোধ জানানো হয়।

বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) শামিম হোসেন জানান, কাস্টমসের চিঠি পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট পণ্যাগারগুলোতে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। বর্তমানে আনসার, বেসরকারি নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান আল-আরাফা এবং গোয়েন্দা সদস্যরা সেখানে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া ৩৪ নম্বর শেডেও ভায়াগ্রা সন্দেহে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা আরেকটি চালানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা চলমান রয়েছে।

তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান আরাফাত এন্টারপ্রাইজ কোয়ার্টজ পাউডার ঘোষণা দিয়ে ভারত থেকে ১৬ টন পণ্য আমদানি করে। চালানটি খালাসের দায়িত্বে ছিলেন হায়দার অ্যান্ড সন্স নামের একটি সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠান। তবে সন্দেহের ভিত্তিতে ল্যাব পরীক্ষায় ওই চালানে ১৩ ধরনের রাসায়নিকের উপস্থিতি পাওয়া যায়, যার মধ্যে ৩ হাজার ৬৭৫ কেজি ভায়াগ্রা ছিল।

এর আগেও ২০১৯ সালের ২৬ মে বায়েজিদ এন্টারপ্রাইজ সোডিয়াম গ্লাইকুলেট ঘোষণা দিয়ে ১০০ ড্রামে ২ হাজার ৭০০ কেজি পাউডার জাতীয় রাসায়নিক আমদানি করে। শাইনিং শিপিং সার্ভিসেস-এর ছাড় করার কথা থাকা ওই চালানটিও পরীক্ষায় ভায়াগ্রা হিসেবে শনাক্ত হয়। সেটি এখনো বন্দরের ৩৪ নম্বর শেডে রাখা রয়েছে।

বেনাপোল আমদানি-রফতানি সমিতির সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান বলেন, ‘এ ধরনের মাদকদ্রব্য দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করলে লাখো তরুণ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির পাশাপাশি সহযোগীদেরও চিহ্নিত করতে হবে।’

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, ‘কিছু অসাধু ব্যবসায়ীদের কারণে সাধারণ আমরা সাধারণ ব্যবসায়ীরা হয়রানির শিকার হচ্ছি। এ কারণে অনেকেই বেনাপোল বন্দর দিয়ে ব্যবসা কমিয়ে দিয়েছেন বা অনেকে একেবারে বন্ধ করে দিয়েছেন।’

বন্দর ব্যবহারকারীদের অভিযোগ, প্রভাব ও অসাধু যোগসাজশের মাধ্যমে বন্দর ও কাস্টমসের পণ্যাগার থেকে প্রায়ই বিভিন্ন পণ্য পাচার হয়ে আসছে। গত মাসে প্রায় ১৫ কোটি টাকার আমদানি পণ্য পাচারের অভিযোগে কাস্টমস, বন্দর, নিরাপত্তাকর্মী, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ও আমদানিকারকসহ ৫৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়। এরপর থেকেই বন্দরের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। আধুনিক ডিজিটাল স্ক্যানিং মেশিন থাকা সত্ত্বেও মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে মাদক ও নিষিদ্ধ পণ্য আমদানি হওয়ায় শঙ্কা বাড়ছে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে।