সংবাদের পর নড়েচড়ে বসল কর্তৃপক্ষ: ঘোড়াঘাটে নওরিন ফিলিং স্টেশনে তেল সরবরাহ শুরু


Desk News প্রকাশের সময় : এপ্রিল ১০, ২০২৬, ৩:২৮ অপরাহ্ন /
সংবাদের পর নড়েচড়ে বসল কর্তৃপক্ষ: ঘোড়াঘাটে নওরিন ফিলিং স্টেশনে তেল সরবরাহ শুরু

ফাহিম হোসেন রিজু
ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) প্রতিনিধি:

আজাদ কন্ঠে-এ সংবাদ প্রকাশের পর অবশেষে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার রানীগঞ্জ বাজারে অবস্থিত নওরিন ফিলিং স্টেশনে পেট্রোল সরবরাহ শুরু হয়েছে। দীর্ঘ এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে রহস্যজনক কারণে পেট্রোল বিক্রি বন্ধ রেখে জনভোগান্তি সৃষ্টি করায় পাম্প কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল।

উপজেলার অন্যান্য ফিলিং স্টেশনে তেল সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও গত ১ এপ্রিল থেকে ৯ এপ্রিল পর্যন্ত রানীগঞ্জের নওরিন ফিলিং স্টেশনে পেট্রোল মিলছিল না। এতে করে ওই অঞ্চলের শত শত মোটরসাইকেল চালক এবং ছোট যানবাহন মালিকরা চরম বিপাকে পড়েন। পেট্রোল না পেয়ে অনেককে দূরবর্তী পাম্পে গিয়ে তেল সংগ্রহ করতে হচ্ছিল। সাধারণ মানুষের অভিযোগ ছিল, এটি পাম্প মালিকের পরিকল্পিত একটি ‘কৃত্রিম সংকট’ বা তেলের ভেলকিবাজি।

তেল বন্ধের বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে পাম্পের মালিক পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে তেল বিতরণকালে কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটায় তারা নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে পেট্রোল সরবরাহ বন্ধ রেখেছেন। তবে স্থানীয়রা এই দাবিকে ‘অজুহাত’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তাদের প্রশ্ন ছিল, উপজেলার অন্য সব পাম্প নিরাপদ থাকলে শুধুমাত্র এই পাম্পেই কেন নিরাপত্তা সংকট হবে? মূলত জনরোষ এবং প্রশাসনের নজরদারি এড়াতেই এমন খোঁড়া যুক্তি দেওয়া হচ্ছিল বলে এলাকাবাসীর দাবি।

নওরিন ফিলিং স্টেশনের এই খামখেয়ালিপনা ও জনভোগান্তির বিষয়টি নিয়ে বৃহস্পতিবার (৮ এপ্রিল) ‘আজাদ কন্ঠ’ অনলাইন পোর্টালে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনের নজরে আসে এবং ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়। সংবাদ প্রকাশের পর আজ শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সকাল ৯টা থেকে থেকে পুনরায় পেট্রোল বিক্রি শুরু করেছে পাম্প কর্তৃপক্ষ।

আজ সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পাম্পে পুনরায় তেল সরবরাহ শুরু হয়েছে এবং গ্রাহকরা পেট্রোল সংগ্রহ করতে পারছেন। হঠাৎ করে তেল সরবরাহ শুরু হওয়ায় স্থানীয়দের মাঝে স্বস্তি ফিরলেও সচেতন মহল মনে করছেন, জনগুরুত্বপূর্ণ সেবা নিয়ে এমন কৃত্রিম সংকট তৈরি করা দণ্ডনীয় অপরাধ। ভবিষ্যতে যেন কোনো পাম্প কর্তৃপক্ষ এমন অজুহাতে জনগণকে জিম্মি করতে না পারে, সেজন্য প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।