সাতক্ষীরায় সেনাবাহিনীর মহড়ায় ভোটকেন্দ্র দখল প্রতিরোধের বাস্তব চিত্র


Desk News প্রকাশের সময় : ফেব্রুয়ারী ৬, ২০২৬, ৬:৪৪ পূর্বাহ্ন /
সাতক্ষীরায় সেনাবাহিনীর মহড়ায় ভোটকেন্দ্র দখল প্রতিরোধের বাস্তব চিত্র

জিয়াউল ইসলাম জিয়া বিশেষ প্রতিনিধি :
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে সাতক্ষীরায় নিরাপত্তা প্রস্তুতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও নিরপেক্ষ করতে বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) জেলার কালিগঞ্জ সেনা ক্যাম্পে আয়োজন করা হয় একটি বিশেষ কৌশলগত মহড়া।

এই মহড়ায় ভোটকেন্দ্র দখল, প্রিজাইডিং অফিসারকে জিম্মি করা, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ও সন্ত্রাসী তৎপরতার মতো সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি মোকাবিলার বাস্তব অনুশীলন উপস্থাপন করা হয়। মাঠপর্যায়ের এই মহড়া স্থানীয় জনগণের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করে এবং নির্বাচন নিয়ে সাধারণ মানুষের উদ্বেগ অনেকটাই কমিয়ে দেয়।

মহড়ায় দেখানো হয়, একটি কাল্পনিক ভোটকেন্দ্রে হঠাৎ সশস্ত্র দুর্বৃত্তরা প্রবেশ করে ভোটগ্রহণে বাধা সৃষ্টি করে এবং প্রিজাইডিং অফিসারকে জিম্মি করে রাখে। এমন পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনীর একটি চৌকস দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।

কৌশলগত অবস্থান গ্রহণ, নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি, সন্দেহভাজনদের ঘিরে ফেলা এবং নির্ভুল অভিযানের মাধ্যমে ভোটকেন্দ্র দখলমুক্ত করা হয়। একই সঙ্গে নিরাপদে উদ্ধার করা হয় জিম্মি কর্মকর্তাকে। পুরো অভিযানটি পরিচালিত হয় নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে, যা সেনাবাহিনীর পেশাদারিত্বের প্রমাণ বহন করে।

সেনাবাহিনী সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচন উপলক্ষে সাতক্ষীরা জেলায় চারটি স্থায়ী সেনা ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। এসব ক্যাম্প থেকে জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ও ভোটকেন্দ্রে নজরদারি পরিচালনা করা হচ্ছে।

ইতোমধ্যে দায়িত্বপ্রাপ্ত সেনাসদস্যরা তাদের আওতাধীন সকল ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন (রেকি) সম্পন্ন করেছেন। এতে সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র চিহ্নিত করা, যোগাযোগব্যবস্থা পর্যালোচনা এবং দ্রুত পৌঁছানোর পথ নির্ধারণ করা হয়েছে।

পাশাপাশি জেলা প্রশাসন, নির্বাচন অফিস, পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি ও আনসার বাহিনীর সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয় সভার মাধ্যমে একটি সমন্বিত নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে।

এবারের নির্বাচনে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। মহড়ায় ড্রোনের মাধ্যমে আকাশপথে নজরদারি, বডি ওর্ন ক্যামেরার মাধ্যমে সরাসরি তথ্য সংগ্রহ এবং ‘সুরক্ষা অ্যাপ’-এর মাধ্যমে তাৎক্ষণিক রিপোর্টিং পদ্ধতির প্রদর্শন করা হয়।

এসব প্রযুক্তির মাধ্যমে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি দ্রুত শনাক্ত করা এবং কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক নির্দেশনা প্রদান সম্ভব হবে।

কালিগঞ্জে সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা জানান, এই ধরনের মহড়া সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তা ও আস্থাবোধ তৈরি করে। ভোটাররা যেন ভয়ভীতি ছাড়া ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সে লক্ষ্যেই এসব প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

একই সঙ্গে নির্বাচনী দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা- কর্মচারী এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মনোবল ও আত্মবিশ্বাস বাড়াতেও এই মহড়া কার্যকর ভূমিকা রাখছে।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সংবিধান ও নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী তারা সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করবে। কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব বা পক্ষপাত ছাড়াই শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য।

সেনাবাহিনী আরও জানায়, অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে সাতক্ষীরাবাসীসহ দেশবাসীকে একটি গ্রহণযোগ্য ও সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিতে তারা সর্বাত্মকভাবে প্রস্তুত।