ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার এবং তার প্রধান সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস) এর মধ্যে সম্পর্ক গত ১১ বছরে কিছুটা শীতল হয়ে পড়েছিল। তবে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত লোকসভা নির্বাচনের হতাশাজনক ফল এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এই দুই সংগঠনকে আবারও কাছাকাছি এনেছে। এমন মন্তব্য করেছেন আরএসএস গবেষক দিলীপ দিওধর, যিনি দেশটির ইংরেজি দৈনিক ইকোনমিক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই বিষয়টি তুলে ধরেন।
দিওধরের মতে, গত এক দশকে আরএসএস ও বিজেপির সম্পর্ক তেমন মধুর ছিল না। বিশেষ করে কর্ণাটক এবং উত্তর প্রদেশের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি আরএসএসের পরামর্শ উপেক্ষা করেছিল। কিন্তু ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের ফলাফলের পর, যেখানে বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি, আরএসএস ও বিজেপি আবার একে অপরের কাছে ফিরে এসেছে।
এছাড়াও, দিলীপ দিওধর আরো বলেন, ২০১৪ সাল থেকে বিজেপি নির্বাচনী প্রচারণায় আরএসএসের কাছ থেকে কোনো সক্রিয় সহায়তা পায়নি। তবে আরএসএস তাদের কর্মীদের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে না বললেও, ব্যক্তিগতভাবে কেউ চাইলে প্রচারে অংশ নিতে পারতেন। আরএসএস কখনোই বিজেপির নির্বাচনী প্রচারণায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করেনি, এবং তার প্রভাব বিধানসভা ও লোকসভা নির্বাচনে প্রতিফলিত হয়েছে।
দিওধর আরও উল্লেখ করেন, আরএসএস প্রধান মোহন ভগবত সম্প্রতি নরেন্দ্র মোদিকে স্বাগত জানিয়েছেন, যা আরএসএস-বিজেপির সম্পর্কের এক নতুন দিক উন্মোচন করেছে। তিনি বলেন, আরএসএস এবার মোদির প্রশংসা করেছেন, যা এক সময় একেবারে অপ্রত্যাশিত ছিল।
দিলীপ দিওধরের মতে, বিজেপি এবং আরএসএস এখন তাদের মতপার্থক্য ভুলে একযোগে কাজ করার চেষ্টা করছে, এবং এর পেছনে একটি বড় কারণ হিসেবে বাংলাদেশে হাসিনা সরকারের পতনকে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে সরকার পরিবর্তনের পর ভারতের বিরোধী নেতারা যেমন সরকার পতনের আহ্বান জানিয়েছিলেন, তেমনি আরএসএস ও বিজেপি জানে, দেশের বাইরে কিছু শক্তি ভারতকে রাজনৈতিক অস্থিরতার দিকে ঠেলে দিতে চাইতে পারে।
আপনার মতামত লিখুন :