জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারগুলোতে নেই ঈদের উৎসব। লক্ষ্মীপুরে ১৬ শহীদ পরিবারের বেশিরভাগের অবস্থায় জরাজীর্ণ। সন্তান হারা পরিবারগুলোর এটাই প্রথম ঈদ। সন্তান বেঁচে নেই, এটাই পরিবারের অনেকেই মেনে নিতে পারছে না। একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে দিশেহারা অনেক পরিবার। কোনো রকম সেমাই খেয়ে ঈদের দিন শুরু করলেও সন্তান না থাকায় তাদের কিছুই ভালো লাগছে না।
গণঅভ্যুত্থানের পর এটাই তাদের প্রথম ঈদ। তাই স্বজন হারানোর শোক কাটিয়ে উঠতে পারেননি। ফিরতে পারেননি স্বাভাবিক জীবনে। কেউ কেউ পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। ঈদ তাদের জন্য আর আগের মতো উৎসব নয়, বরং বেদনার আরেক নাম। বুকভরা কান্না যেন থামছে না। কীসের ঈদ। কাকে নিয়ে ঈদ করবেন। হত্যাকারীদের বিচার চান শহীদ পরিবারের স্বজনরা।
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা ভবানীগঞ্জের শফীপুর এলাকায় টিনের ঘরে দুই মেয়ে আর স্ত্রী নিয়ে আমির হোসেনের বসবাস। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ছিল বড় ছেলে সাব্বির হোসেন। সাব্বির হোসেনের স্ত্রী ও এক শিশু সন্তান রয়েছে।
গত ৪ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থানে লক্ষ্মীপুর শহরের চকবাজার এলাকায় গুলিতে সাব্বির হোসেন,কাউছার হোসেন বিজয়,সাদ আল আফনান ও ওসমান গনিসহ শহীদ হন চারজন।
এছাড়া ঢাকা ও চট্টগ্রামে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে শহীদ হন আরও ১২জন। এ নিয়ে জেলায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদের সংখ্যা ১৬জন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ কাউছার হোসেন বিজয়ের পরিবারের মাথা গোঁজার কোনো জায়গা নেই। তারা থাকেন অন্যের বাড়িতে। কাউছার হোসেন বিজয়ের মা জোসনা বেগম ছেলের ছবি বুকে জড়িয়ে ধরে কাঁদছেন আর বিলাপ করছেন। শুধু কাউছার হোসেন বিজয়ের মা জোসনা বেগম ও বাবা ইছমাইল হোসেনেই নয়, প্রায় একই চিত্র জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রত্যেক শহীদ পরিবারে।
আপনার মতামত লিখুন :