৩০ বছর পর দিনাজপুর–৬ আসনে বিএনপির সর্বোচ্চ নেতৃত্বের বাজি


Desk News প্রকাশের সময় : ফেব্রুয়ারী ৪, ২০২৬, ৫:২১ অপরাহ্ন /
৩০ বছর পর দিনাজপুর–৬ আসনে বিএনপির সর্বোচ্চ নেতৃত্বের বাজি

ফাহিম হোসেন
ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) প্রতিনিধি:

আসন্ন জাতীয় ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দিনাজপুর-৬ আসন (ঘোড়াঘাট, নবাবগঞ্জ, হাকিমপুর ও বিরামপুর) মধ্যে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট এলাকায় নির্বাচনী মাঠ কার্যত দখলে নিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও দিনাজপুর–৬ আসনের ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী অধ্যাপক ডা. এ. জেড. এম. জাহিদ হোসেন। তাঁর গণসংযোগ ও প্রচারণাকে কেন্দ্র করে এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক উত্তাপ।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দিনব্যাপী ঘোড়াঘাট উপজেলার খোদাদপুর, চেংগ্রাম ও ওসমানপুরসহ আরও অন্যান্য এলাকায় পরিচালিত গণসংযোগে হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে স্পষ্ট হয়ে ওঠে—দিনাজপুর–৬ আসনে এবার লড়াই অন্য মাত্রায় প্রবেশ করেছে। রাস্তা, বাজার ও পাড়া-মহল্লায় মানুষের ভিড়, স্লোগান আর করতালিতে ধানের শীষের পক্ষে জনসমর্থনের শক্ত বার্তা পৌঁছে যায় পুরো এলাকায়।

দীর্ঘ ৩০ বছর পর এই আসনে বিএনপি সরাসরি দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির একজন শীর্ষ নেতাকে প্রার্থী করায় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি বিএনপির একটি কৌশলগত ও আগ্রাসী সিদ্ধান্ত। মাঠপর্যায়ে এই সিদ্ধান্তের প্রভাব ইতোমধ্যে দৃশ্যমান।

গণসংযোগকালে ডা. এ. জেড. এম. জাহিদ হোসেন স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “এই আসনের মানুষ ভোটের অধিকার হারিয়েছে। ভয়-ভীতি ও নিয়ন্ত্রিত নির্বাচনের রাজনীতি বন্ধ করতে হবে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে এই এলাকার বঞ্চনার অবসান ঘটানোই আমার লক্ষ্য।”

তিনি আরও বলেন, দিনাজপুর–৬ আসন থেকেই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন জোরদার করা হবে এবং জনগণের মালিকানা জনগণের কাছেই ফিরিয়ে দেওয়া হবে।

স্থানীয় ভোটাররা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত এই এলাকার মানুষ এবার শক্ত অবস্থান নিয়েছে। একজন জাতীয় পর্যায়ের অভিজ্ঞ ও প্রভাবশালী নেতৃত্বকে সামনে পেয়ে ভোটারদের মধ্যে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।

গণসংযোগে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ছাড়াও সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই প্রচারণার পরপরই পুরো ঘোড়াঘাট এলাকায় নির্বাচনী আলোচনা নতুন মোড় নিয়েছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দিনাজপুর–৬ আসনে ডা. এ. জেড. এম. জাহিদ হোসেনের মাঠে নামা শুধু একটি প্রার্থিতা নয়, বরং এটি বিএনপির পক্ষ থেকে একটি শক্ত বার্তা—এই আসন এবার কোনোভাবেই ছেড়ে দেওয়ার নয়।