
বিশেষ প্রতিনিধি :
ভারত বাংলাদেশ সীমান্তকে ঘিরে ফের নতুন এক বিতর্কের জন্ম হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই সীমান্তে গুলি চালানো, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং অনুপ্রবেশ ঠেকাতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া নিয়ে নানা অভিযোগ উঠেছে। সেই আবহেই এবার নদী ও জলাভূমি সংলগ্ন সীমান্ত এলাকায় নজরদারি জোরদার করতে সাপ ও কুমিরের মতো হিংস্র সরীসৃপ ব্যবহারের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ।
বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই দুই দেশের সীমান্তবর্তী মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছে নতুন উদ্বেগ, একইসঙ্গে মানবাধিকার মহলেও শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা।
প্রায় চার হাজার কিলোমিটারের বেশি দীর্ঘ ভারত বাংলাদেশ সীমান্তের একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে নদী, খাল ও জলাভূমি। এইসব এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া বসানো সম্ভব হয়নি। ফলে এই অংশগুলোকে দীর্ঘদিন ধরেই ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করে বিএসএফ। তাদের দাবি, এইসব পথ ব্যবহার করেই অনুপ্রবেশ, চোরাচালান এবং অবৈধ যাতায়াত ঘটে থাকে। ইতোমধ্যেই এই সীমান্তে ড্রোন নজরদারি, তাপচিত্র যন্ত্র, জিপিএস নির্ভর ট্র্যাকিং ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি বহু স্থানে কাঁটাতারের বেড়া এবং কিছু জায়গায় বিদ্যুতায়িত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও গড়ে তোলা হয়েছে। তারপরও পুরো সীমান্তকে সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি বলে মনে করছে বিএসএফ।এই প্রেক্ষাপটে নদীপথে নজরদারি আরও কঠোর করতে নতুন একটি ভাবনা সামনে এসেছে।
ভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা গেছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে বিএসএফের শীর্ষ পর্যায়ের এক বৈঠকে সীমান্তের জলাভূমি এলাকায় সাপ ও কুমির ব্যবহারের সম্ভাব্যতা নিয়ে আলোচনা হয়। সেই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বিএসএফ প্রধান প্রবীণ কুমার। পরে মার্চ মাসে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত আরেকটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকেও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তোলা হয় এবং মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাছে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের নির্দেশ পাঠানো হয়।
বিএসএফের যুক্তি, যেখানে প্রযুক্তিগত নজরদারি পৌঁছানো কঠিন এবং যেখানে নিয়মিত টহল দেওয়া সম্ভব হয় না, সেখানে প্রাকৃতিকভাবে ভয় সৃষ্টি করতে পারে এমন ব্যবস্থা গ্রহণ করলে অনুপ্রবেশ অনেকটাই কমানো সম্ভব হতে পারে। অর্থাৎ নদী বা জলাভূমিতে যদি কুমির বা বিষাক্ত সাপের উপস্থিতি থাকে, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই মানুষ ওই পথ ব্যবহার করতে ভয় পাবে। এই মনস্তাত্ত্বিক প্রভাবকে কাজে লাগাতেই এমন ভাবনা চিন্তা করা হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আপনার মতামত লিখুন :