সাতক্ষীরার চম্পাফুল স্কুলে স্বপন ঘোষের নিয়োগের বৈধ্যতা নিয়ে নানান প্রশ্ন; ২৮ বছর যাবৎ তুলছেন বেতন-ভাতা


Desk News প্রকাশের সময় : এপ্রিল ১২, ২০২৬, ৮:১৪ পূর্বাহ্ন /
সাতক্ষীরার চম্পাফুল স্কুলে স্বপন ঘোষের নিয়োগের বৈধ্যতা নিয়ে নানান প্রশ্ন; ২৮ বছর যাবৎ তুলছেন বেতন-ভাতা

জিয়াউল ইসলাম জিয়া বিশেষ প্রতিনিধি :
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার চম্পাফুল আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র বিদ্যাপীঠে সহকারী কৃষি শিক্ষক হিসেবে কর্মরত স্বপন কুমার ঘোষের নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুতর অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, কোনো নিয়ম-কানুন অনুসরণ না করেই ১৯৯৭ সালে নিয়োগ নিয়ে তিনি প্রায় ২৮ বছর ধরে বেতন-ভাতা উত্তোলন করে আসছেন।

অভিযোগ রয়েছে, ১৯৯৭ সালে তৎকালীন স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি মতিয়ার রহমানকে অভিভাবক সদস্য আকতার হোসেনের মাধ্যমে আর্থিক সুবিধা দিয়ে প্রভাবিত করে কোনো ধরনের লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা ছাড়াই সহকারী কৃষি শিক্ষক পদে নিয়োগ পান তিনি। সে সময় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন স. ম. আজিজুল হক।

জানা যায়, স্বপন কুমার ঘোষের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ন্যূনতম বিধি অনুসরণ করা হয়নি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে কমপক্ষে তিনজন প্রার্থীর উপস্থিতি বাধ্যতামূলক থাকলেও এ ক্ষেত্রে তা মানা হয়নি। এছাড়া নিয়োগ বোর্ড গঠন, ডিজির প্রতিনিধি মনোনয়ন, সাক্ষাৎকারের নম্বর ফর্দ, যোগদান অনুমোদনসহ গুরুত্বপূর্ণ কোনো কাগজ পত্র না থাকার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের একাধিক অডিটেও এসব অনিয়ম ধরা পড়লেও প্রতিবারই অবৈধ সুবিধা দিয়ে তা ‘ম্যানেজ’ করা হয়েছে।

নিয়োগপত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়, স্কুল পরিচালনা কমিটির কোনো সদস্যের স্বাক্ষর না থাকলেও সেখানে নামবিহীন সীল ব্যবহার করা হয়েছে। এমনকি আশাশুনি উপজেলা তৎকালীন মৎস্য কর্মকর্তার স্বাক্ষর রয়েছে, যার নাম উল্লেখ নেই- যা নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

অন্যদিকে, ১৯৯৭ সালের ৭ এপ্রিলের যোগদানপত্রেও ‘গৃহীত হইল’ উল্লেখ থাকলেও গ্রহণকারীর নাম নেই, রয়েছে শুধু স্বাক্ষর। একইভাবে এই যোগদানপত্রও আশাশুনি উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার মাধ্যমে সত্যায়িত হয়েছে, যা অবৈধ নিয়োগের প্রমাণক।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বর্তমান প্রধান শিক্ষক আব্দুল হাকিম বলেন, স্বপন কুমার ঘোষের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যথেষ্ট গরমিল রয়েছে। প্রয়োজনীয় অনেক কাগজপত্রের ঘাটতি ছিল এবং এখনও রয়েছে। বলা যায়, নিয়োগটি মিনিস্ট্রির নিয়ম মেনে হয়নি।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে স্বপন কুমার ঘোষ বলেন, আমার নিয়োগ সম্পূর্ণ বৈধ। এ পর্যন্ত একাধিক অডিট হয়েছে এবং আমার সব কাগজপত্র রয়েছে। একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।

এদিকে, শিক্ষা সংশ্লিষ্ট সচেতন মহল বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নিয়ে দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করে গ্রহণকৃত বেতন- ভাতা ফেরত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।