
মিলন হোসেন চীফ রিপোর্টার ,
গত অর্থবছরে তার আগের বছরের তুলনায় বেনাপোল বন্দরে আমদানি কমেছে ৭৫ হাজার ৭৪৬ মেট্রিক টন এবং রপ্তানি কমেছে ৭৫ হাজার ২৩২ মেট্রিক টন। রেলপথেও বাণিজ্য কমেছে ২৯ হাজার মেট্রিক টন।
সরকার পরিবর্তনের পর গত এক বছরে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের আশানুরূপ উন্নতি হয়নি। নানা প্রতিবন্ধকতায় বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানির পরিমাণ ক্রমেই কমছে।
গত অর্থবছরে তার আগের বছরের তুলনায় বেনাপোল বন্দরে আমদানি কমেছে ৭৫ হাজার ৭৪৬ মেট্রিক টন এবং রপ্তানি কমেছে ৭৫ হাজার ২৩২ মেট্রিক টন। রেলপথেও বাণিজ্য কমেছে ২৯ হাজার মেট্রিক টন।
বেনাপোল কাস্টমস সূত্র জানায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভারত থেকে আমদানি হয়েছে ২০ লাখ ৩৮ হাজার ৭৮০ মেট্রিক টন পণ্য। আগের বছর ২০২৩-২৪ অর্থবছরে আমদানির পরিমাণ ছিল ২১ লাখ ১৪ হাজার ৫০৯ মেট্রিক টন।
২০২২-২৩ অর্থবছরে আমদানি হয়েছিল ১৪ লাখ ৪৫ হাজার টন, ২০২১-২২ সালে ২১ লাখ ১৪ হাজার টন, ২০২০-২১ সালে ২৬ লাখ ৪৪ হাজার টন এবং ২০১৯-২০ সালে ২০ লাখ ৩৮ হাজার ৬৪ টন। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে আমদানি ছিল ২০ লাখ ১১ হাজার ৬ টন।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, আমদানি-রপ্তানির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা দ্রুত প্রত্যাহার না হলে বড় ধরনের বাণিজ্য ও রাজস্ব ঘাটতি তৈরি হবে। তবে বন্দর কর্তৃপক্ষের দাবি, সরকার চাইলে বাণিজ্য বৈঠকে এসব বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বাণিজ্য সংশ্লিষ্টরা জানান, গত ৫ আগস্টের আগে বেনাপোল দিয়ে প্রতিদিন ৫০০ থেকে ৬০০ ট্রাক ভারতীয় পণ্য আমদানি হতো। আর বাংলাদেশি পণ্য ভারতে রপ্তানি হতো ২৫০ থেকে ৩০০ ট্রাক।
কিন্তু ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা দেয়, যা পরবর্তীতে বাণিজ্যকে প্রভাবিত করে। সরকার পরিবর্তের পর থেকে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে পণ্য আমদানিতে ভারত তিন দফায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।
গত ৮ এপ্রিল ভারতের নিষেধাজ্ঞায় সড়ক পথে ভারতের বিমানবন্দর ব্যবহার করে তৃতীয় দেশে গার্মেন্টস পণ্য রপ্তানি বন্ধ হয়ে যায়।
পরবর্তীতে গত ১৭ মে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে ভারত স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক, সুতা, প্লাস্টিক ও কাঠের তৈরি পণ্য, ফল ও ফলজাত পণ্য আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়।
এর আগে ১৫ এপ্রিল দেশীয় শিল্প সুরক্ষার যুক্তি দেখিয়ে বাংলাদেশ সরকার ভারত থেকে সুতা, নিউজপ্রিন্ট, সিগারেট পেপার, ডুপ্লেক্স বোর্ড, ক্রাফট পেপার, আলু, গুঁড়া দুধ, টোব্যাকো, রেডিও-টিভি যন্ত্রাংশ, সাইকেল, ফরমিকা শিট, সিরামিকওয়্যার, স্যানিটারিওয়্যার, স্টেইনলেস স্টিলওয়্যার, মার্বেল স্ল্যাব-টাইলস এবং মিক্সড ফেব্রিক্সের আমদানি নিষিদ্ধ করে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতির উন্নতি না হলে বছর শেষে বড় ধরনের বাণিজ্য ও রাজস্ব ঘাটতি দেখা দেবে। গত অর্থবছরে আগের বছরের তুলনায় বেনাপোল বন্দরে আমদানি কমেছে ৬ লাখ ৩১ হাজার ৩৩০ মেট্রিক টন এবং রপ্তানি কমেছে ৭৫ হাজার ২৩২ মেট্রিক টন। রেলপথেও বাণিজ্য কমেছে ২৯ হাজার মেট্রিক টন।
বেনাপোল আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান বলেন, “ভারতের একের পর এক নিষেধাজ্ঞায় বাণিজ্য ঘাটতি বাড়ছে। বাংলাদেশও কয়েকটি পণ্যে আমদানি নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। এতে জরুরি পণ্যসহ বিভিন্ন খাতে আমদানি-রপ্তানি কমে গেছে।”
ভারত-বাংলাদেশ ল্যান্ডপোর্ট ইমপোর্ট-এক্সপোর্ট কমিটির চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান বলেন, স্থলপথে ব্যবসায়ীরা আরো বেশি পণ্য আমদানি-রপ্তানি করতে চান, কিন্তু বন্দরগুলোর অনুন্নত অবকাঠামো বাণিজ্য বিস্তারে বাধা দিচ্ছে। ভারত-বাংলাদেশ-নেপাল-ভুটান (বিবিআইএন) স্থল বাণিজ্য চুক্তিও কার্যকর হয়নি।
তিনি বলেন, “যেসব বন্দরের চাহিদা বেশি, সেখানে যোগাযোগ ব্যবস্থা ও অবকাঠামোর উন্নয়নে অন্তর্বর্তী সরকারের নজর দেওয়া জরুরি।”
বেনাপোল রেলওয়ে স্টেশনমাস্টার আয়নাল হাসান জানান,সর্বশেষ ২৩ নভেম্বর রেলপথে এসিআই মোটরস ভারত থেকে ১০০টি ট্র্যাক্টর আমদানি করেছে। তবে গত বছরের ৫ আগস্টের পর ভারতের নিষেধাজ্ঞার কারণে ঢাকা-বেনাপোল-কলকাতা রুটে যাত্রীবাহী রেল চলাচল বন্ধ রয়েছে।”
বেনাপোল স্থলবন্দর পরিচালক উপ সচিব মোঃ শামিম হোসেন রেজা বলেন, গত ২৫ নভেম্বর বেনাপোল দিয়ে ভারত থেকে ২৪৩ ট্রাক পণ্য আমদানি হয়েছে এবং বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানি হয়েছে ৪৫ ট্রাক।
আপনার মতামত লিখুন :